কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তারা কমবেশি সবাই আইপি অ্যাড্রেস সম্পর্কে শুনেছেন নিশ্চয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, আইপি অ্যাড্রেস কি? এর প্রয়োজনীয়তা কি? এর আলাদা আলদা প্রকারভেদ গুলো কি কি?

আইপি (IP) অ্যাড্রেস কি?
ইন্টারনেট প্রটোকল অ্যাড্রেস বা ইন্টারনেট প্রটোকল ঠিকানা ( IP address বা Internet Protocol (IP) address ) হল একটি সংখ্যাগত লেবেল যা কোন কম্পিউটার নেটওয়ার্কে যুক্ত প্রতিটি কৌশল বা ডিভাইসের জন্য নির্ধারিত যেখানে নেটওয়ার্কের নোড গুলো যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যবহার করে ।[১] ইন্টারনেট প্রটোকল অ্যাড্রেসের প্রধান কাজ মুলত দুটি:হোস্ট অথবা নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস শনাক্ত করা এবং অবস্থান খুজে বের করা।

টিসিপি/আইপি পরিকল্পনাকারীরা ইন্টারনেট প্রটোকল ঠিকানাকে ৩২বিটের নম্বর দিয়ে প্রকাশ করেছিলেন এবং এই পদ্বতিটি ইন্টারনেট প্রটোকল ভার্সন ৪ নামে পরিচিত যা এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে।তবে ইন্টারনেটের ব্যবহার অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং অব্যবহৃত অ্যাড্রেস দিন দিন কমতে থাকায় ১৯৯৫ সনে নতুন একটি অ্যাড্রেসিং পদ্বতি(আইপিভি৬) চালু করা হয় যেখানে প্রতিটি অ্যাড্রেসকে প্রকাশ করার জন্য ১২৮বিট নম্বর ব্যবহৃত হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে আরফসি ২৪৬০ এ তা মানোপযোগী করা হয়। ইন্টারনেট প্রটোকল অ্যাড্রেস গুলোকে স্টোর করার জন্য বাইনারী নম্বর পদ্বতি ব্যবহার করা হলেও এটি প্রকাশ করার জন্য সাধারণত মানুষের পঠনযোগ্য সঙ্কেতে ব্যবহার করা হয়,উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়,180.210.130.13 (আইপিভি৪) এবং 2001:db8:0:1234:0:567:1:1(আইপিভি৬)।

বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট প্রটোকল অ্যাড্রেস স্পেস বরাদ্দের কাজটি পরিচালনা করে থাকে internet Assigned Numbers Authority(ICNA) এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালনা করার জন্য তারা ৫টি আঞ্চলিক ইন্টারনেট রেজিষ্টি (RIRs) নিয়োগ করেছে যারা স্থানীয় ইন্টারনেট রেজিষ্টিকে(ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে আইপি অ্যাড্রেস ব্লক বরাদ্দ করে থাকে ।

IP Address দেখতে কেমন?
একটি IP Address এর চারটি ডিজিট থাকে, প্রত্যেকটিতে ১ থেকে ৩ ডিজিট (যাদের একত্রে একটি সেট বলা হয়) থাকে, আর ডিজিটের সেটকে আলাদা করার জন্য একটি ডট(.) থাকে। চারটি নম্বরের প্রত্যেকটি ০ থেকে ২৫৫ পর্যন্ত হতে পারে। এখানে একটি উদাহরণ দেখে নিই IP Address কেমন হতে পারে-78.125.0.209। এই চার সংখ্যার সুনিপন দক্ষতায় ফলে, আমারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই এক-অপরের সাথে সংযোগ, বার্তা আদান-প্রদান করা সহ আরো অনেক কিছুই খুব সহজেই করতে পারি। এই সাংখ্যিক প্রোটোকল ছাড়া, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ওয়েবের মাধ্যমে ডাটা আদান-প্রদান করা অসম্ভব।

কাজের ধরণ:
আইপি অ্যাড্রেস স্ট্যাটিক বা ডাইনামিক হতে পারে। স্ট্যাটিক আইপি অ্যাড্রেস কখনো পরিবর্তন করা যায় না। স্ট্যাটিক আইপি অ্যাড্রেস দূরবর্তী কম্পিউটারের সাথে আপনার যোগাযোগ করার জন্য একটি সহজ এবং নির্ভরযোগ্য পন্থা। অনেক ওয়েবসাইট যারা ইন্টারনেট ইউজারদের বিনামূল্যে IP address এর সন্ধান, পরিসেবা প্রদান করে থাকে। আপনি যদি আপনার নিজের IP Address সম্পর্কে জানতে চান, আপনি গুগলেসার্চ দিয়ে সনাক্ত করতে পারেন।

Dynamic iP Address:
Dynamic IP addresses অস্থায়ী এবং একটি কম্পিউটারে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। Static IP addresses সংখ্যায় কম হয়,কারণ অনেক ISPsরা্ এই সকল static IP Address থেকেই তাদের গ্রাহকদের মধ্যে এড্রেস শেয়ার করে দেয়। ফলে, কম খরচে বেশী গ্রাহককে সেবাপ্রদান করতে পারে।

Static iP Address:
যারা ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল) অনলাইন গেমিং, খুব সহজে অন্যান্য কম্পিউটারের ব্যবহারকারীদের সহজে চিহ্নিতকরণ এবং তাদের সাথে সংযোগস্থাপন করতে চান, তাদের Static IP Address ব্যবহার করা উত্তম। Dynamic IP Address এ Dynamic DNS service ব্যবহার করেও আপনি একটি অস্থায়ী বা one-time IP Address ব্যবহার করে অন্যান্য কম্পিউটারের ব্যবহারকারীদের সহজে চিহ্নিতকরণ এবং তাদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন। এই প্রায়ই একটি অতিরিক্ত চার্জ যাতে কেটে না নেয়, অবশ্যই ISP এর সাথে চেক করে নেবেন।

মনে রাখবেন
Static IP Addresses, Dynamic IP Addresses চেয়ে কিছুটা কম নিরাপদ বলে মনে করা, কেননা ডাটা মাইনিংয়ের ক্ষেত্রে এদের ট্র্যাক করা অনেক সহজ। সঠিকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার/পরিচালনা করলে আপনি যে ধরনেরই IP Address ব্যবহার করেন না কেন আপনার কম্পিউটার/অন্যান্য যে কোন ডিভাইসের নিরাপত্তা বা অন্য কোন সমস্যা হবার সম্ভাবনা থাকেনা।

কিভাবে একটি পিসি বা ল্যাপটপের আইপি অ্যাড্রেস চেক করবো?
আইপি অ্যাড্রেস হলো ইন্টারনেট প্রোটোকল অ্যাড্রেস। এইটা দুই প্রকার হয় – IPv4 এন্ড IPv6, যদিও এখন পর্যন্ত IPv4 বেশি ব্যবহৃত কিন্তু আসতে সব IPv6 হয়ে যাবে। IPv4 হচ্ছে ৩২ বিট এর এড্রেস এবং IPv6 হলো ১২৮ বিট এর এড্রেস। আইপি অ্যাড্রেস দিয়ে একটা নেটওয়ার্ক এ কম্পুটারের আইডেন্টিটি নির্ধারণ করা হয়। এই নেটওয়ার্ক যত ছোটই (লোকাল হোম নেটওয়ার্ক) হোক বা বরই (ইন্টারনেট) হোক না কেন আইপি অ্যাড্রেস দ্বারা এক কম্পিউটার আরেক কম্পিউটার এর সাথে যোগাযোগ করে। আইপি অ্যাড্রেস চেক করার জন্য অনেক পধ্হতি আছে। যেহেতু আইপি অ্যাড্রেস সফটওয়্যার লেভেল অ্যাড্রেস, এইটা এক এক সময় চেঞ্জ হতে পারে। Windows এ কমান্ড লাইন এ গিয়ে (start -> run -> cmd) এই কমান্ড টা টাইপ করেন: ipconfig /all ওই রেসাল্ট এ দেখবেন আপনার বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ডিটেল আছে। Linux এ bash কমান্ড হলো: ifconfig | grep “inet addr” রেসাল্ট এ আপনার দুইটা লাইন আসবে, প্রথম লাইন এ বেশিরভাগ সময় আমার localhost আইপি থাকবে আর দিতীয় লাইন এ আপনার নেটওয়ার্ক এর আইপি অ্যাড্রেস থাকবে।

আপনার ডিভাইজটির আইপি অ্যাড্রেস কি তা যদি চেক করতে চান তবে সাধারন ভাবে গুগলে প্রবেশ করুন এবং সার্চ বারে গিয়ে টাইপ করুন “What is my IP”। ব্যাস, সার্চ রেজাল্টে আপনি আপনার অ্যাড্রেস দেখতে পেয়ে যাবেন। আবার কিছু লোক আছে যারা তাদের আসল অ্যাড্রেস পরিবর্তন করে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন, এবং চিন্তা করেন যে আর কেউ তাদের ট্রেস করতে পারবে না। আসলে এটি ভুল ধারণা, আপনি যে অ্যাড্রেস পরিবর্তন করেই ইন্টারনেট ব্যবহার করুন না কেন আপনাকে তারপরেও ট্রেস করা সম্ভব। তাই অ্যাড্রেস পরিবর্তন কোন প্রকার অসৎ কাজ করার চিন্তা একদমই ভুলে যান। এবং সেটিই আপনার জন্য ভালো হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here